Alliance for Bangladesh Worker Safety

বাংলা

সেইফটি কমিটি

অ্যালায়েন্সের প্রতিশ্রুতি
কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা একটি চলমান প্রক্রিয়া যা কেবলমাত্র ভৌত কর্ম পরিবেশের ওপরই যে নির্ভর করে তা নয়, এর জন্য একই সঙ্গে প্রয়োজন শ্রমিক এবং ম্যানেজমেন্টের ভেতর একটি কার্যকরি যোগাযোগ । পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করার জন্য এই উভয় পক্ষের মধ্যে কার্যকর সংলাপ বিনিময় প্রয়োজন । সেজন্য, অ্যালায়েন্স এবং এর সদস্য কোম্পানিগুলো কারখানাগুলোতে বিশ্বাসযোগ্য শ্রমিক সেইফটি কমিটি গঠনে সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আর যোগাযোগ স্থাপন প্রক্রিয়ায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অ্যালায়েন্স-অধিভূক্ত সকল কারখানায় এটি প্রয়োজন । বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এবং ইপিজেড শ্রমিক কল্যাণ সমিতি ও শিল্প সম্পর্ক আইন ২০১০ আইন অনুসারে, অ্যালায়েন্স সেইফটি কমিটি কর্মসূচি কারখানাগুলোতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সেইফটি কমিটি প্রতিষ্ঠায়, ভূমিকা এবং দায়িত্ব বিষয়ক সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কমিটি সদস্যদের সামর্থ বৃদ্ধিতে, এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেইফটি কমিটির কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে সহায়তা প্রদান করছে ।

সেইফটি কমিটি গঠন

কমিটি কাঠামো: সেইফটি কমিটিতে ম্যানেজমেন্ট এবং শ্রমিক উভয় পক্ষের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি থাকবে, যেখানে সর্বমোট নুন্যতম ৬ জন থেকে সর্বচ্চো ১২ জন প্রতিনিধি থাকবে । ম্যানেজমেন্ট টিমের একজন সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন । সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন একজন শ্রমিক প্রতিনিধি এবং আরেকজন শ্রমিক প্রতিনিধি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন । যদি কারখানায় কমপক্ষে এক তৃতীয়াংশ শ্রমিক নারী হয় তাহলে সেইফটি কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধির এক তৃতীয়াংশ অবশ্যই নারী হতে হবে । প্রতিটি নির্বাচিত কমিটির মেয়াদকাল হবে ২ বছর ।

কমিটি কাঠামো

মনোনয়ন এবং নির্বাচন: কারখানার ম্যানেজমেন্ট টিম ম্যানেজমেন্ট প্রতিনিধি মনোনীত করে, এবং গনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অংশগ্রহন কমিটি (পিসি) অথবা ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনীত করে । কারখানা যদি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে ( ইপিজেড) হয়ে থাকে তাহলে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি (ডব্লিউডব্লিউএ) সেইফটি কমিটি সদস্য মনোনীত করতে পারে ।

যাচাই এবং সহায়তা: অ্যালায়েন্স প্রতিটি কারখানার অংশগ্রহন কমিটি (পিসি), শ্রমিক কল্যাণ সমিতি (ডব্লিউডব্লিউএ) অথবা যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (ট্রড ইউনিয়ন) আইন অনুসারে গণতান্ত্রিকভাবে গঠিত কিনা তা যাচাই করে, যেহেতু এটি সেইফটি কমিটি মনোনয়নের একটি পূর্বশর্ত । কারখানায় অনুষ্ঠিত মনোনয়ন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া বিষয়ে শ্রমিকদের এলোমেলো পদ্ধতিতে সাক্ষাৎকার গ্রহন করার মাধ্যমে যাচাই কাজটি করা হয় । যদি দেখা যায় যে সঠিকভাবে গঠিত তাহলে অ্যালায়েন্স সেইফটি কমিটির ভূমিকা কি এবং সেইফটি কমিটির সদস্যদের সঠিকভাবে কিভাবে মনোনয়ন করতে হয় সে বিষয়ক শিক্ষা দিতে কারখানার ম্যানেজমেন্ট এবং অংশগ্রহন কমিটি (পিসি), শ্রমিক কল্যাণ সমিতি (ডব্লিউডব্লিউএ), এবং ট্রেড ইউনিয়নের সাথে কাজ করে ।

সেইফটি কমিটি প্রশিক্ষণ

ট্রেইন-দি ট্রেইনার মডেল: সেইফটি কমিটি সঠিকভাবে গঠিত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হবার পর অ্যালায়েন্স সেইফটি কমিটিকে আমন্ত্রণ জানায় দু’জন নির্বাচিত শ্রমিক প্রতিনিধিকে এবং দু’জন ম্যানেজমেন্ট প্রতিনিধিকে অ্যালায়েন্সে দুই দিনের প্রশিক্ষণের জন্য পাঠিয়ে দিতে । ট্রেইন-দি ট্রেইনার পদ্ধতি ব্যবহার করে এই সব প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়, এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই সব প্রতিনিধিরা তখন কারখানায় অবশিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন এবং এই প্রশিক্ষণকে তাদের কমিটির কার্যকলাপ এবং কর্মকান্ডে একীভূত করেন ।

প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন: প্রতিনিধি এবং কারখানার অভ্যন্তরীণ উভয় প্রশিক্ষণই অত্যন্ত অংশগ্রহনমূলক, ভূমিকা অভিনয়, প্রদর্শন এবং অন্যান্য ইন্টারেকটিভ কর্মকান্ডমূলক । প্রশিক্ষণ উপকরণ - যার ভেতর রয়েছে ফ্লিপচার্ট, গাইডবুক, লিফলেট এবং টুলকিটস – এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন স্বল্প শিক্ষিত প্রতিনিধিরাও খুব সহজে বুঝতে পারেন ।

সেইফটি কমিটি উন্নয়ন কার্যক্রম

সেইফটি কমিটির শর্তাবলী: অ্যালায়েন্স সেইফটি কমিটি কে উপদেশ এবং নির্দেশনা দিয়ে থাকে যেন তারা একটি কার্যকর কমিটি গঠন করতে পারে যা মনিটর এবং যোগাযোগে সক্ষম হবে এবং কারখানার নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়তা করতে পারবে । কারখানার সেইফটি কমিটির প্রতিনিধিরা অ্যালায়েন্স থেকে প্রশিক্ষণ পাবার পর ৫ দিনের মধ্যে অবশ্যই তাদের কর্ম পরিকল্পনা পেশ করতে হবে যেখানে নিচের কর্মকান্ডগুলো তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে । এই সময়ের মধ্যে অ্যালায়েন্স বিভিন্ন রকমের সহায়তা প্রদান করে থাকে, কোনো প্রশ্ন অথবা সমস্যা হয়ে থাকলে সে বিষয়ে সাহায্য করে । সেইফটি কমিটিকে প্রতিটি কর্মকান্ড সমাপ্ত করার প্রমান অবশ্যই দাখিল করতে হবে । যেমন ট্রেইনিং রিপোর্ট, হাজিরা রেকর্ড এবং ডকুমেন্টেড প্রটোকল ।

  • অ্যালায়েন্স-প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রতিনিধি কর্তৃক অংশগ্রহন কমিটি (পিসি) সহ অবশিষ্ট সেইফটি কমিটি সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান ।
  • সেইফটি কমিটি প্রতিনিধিদের পরিচয় প্রদান, ওরিয়েন্টেশন প্রদান এবং সমস্ত শ্রমিকদের নিকট লিফলেট প্রদান ।
  • একটি সেইফটি নীতিমালা গঠন, সেইফটি রেকর্ড বুক, এবং জরুরি মূহুর্তে সাড়া প্রদান পদ্ধতি গঠন ।
  • শ্রমিক কর্তৃক উত্থাপিত সমস্যা এবং সেইফটি কমিটি কর্তৃক সমাধানকৃত সমস্যার একটি রেজিষ্টার গঠন ।
  • একটি ঝুঁকি মূল্যায়ন করবে এবং দুটি ফলো-আপ করবে ।
  • তিনটি আনুষ্ঠানিক সেইফটি কমিটি মিটিংয়ের আয়োজন করবে ।
  • তিনটি ভবন ত্যাগ মহড়ার আয়োজন করবে ।

অ্যালায়েন্স সেইফটি কমিটি কার্যক্রমে প্রতিটি সেইফটি কমিটির প্রথম তিন মাসে, অ্যালায়েন্স কর্মকর্তারা কারখানা পরির্দশনে যাবেন সেইফটি কমিটির প্রয়োজনীয় সমস্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে কিনা তা যাচাই করতে, কর্মক্ষেত্রে এর কি প্রভাব তা মূল্যায়ন করতে এবং সেইফটি কমিটি কোনো বাধার সম্মুখিন হলে তা সমাধানে সাহায্য প্রদান করবে ।

ট্র্যাকিং এবং অগ্রগতিতে সহায়তা প্রদান
সেইফটি কমিটির কার্যক্রম চলাকালীন, অ্যালায়েন্স সেইফটি কমিটির সঙ্গে ফলো-আপ অব্যাহত রাখে এটা যাচাই করতে যে, কমিটি তার কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে কিনা এবং কর্ম পরিকল্পনা অনুসারে অগ্রগতিলাভ করতে তার কি কি রিসোর্স প্রয়োজন । তারা যেভাবে কাজ করে:

স্পট চেক: কারখানার অভ্যন্তরীন প্রশিক্ষণ সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা এবং সেইফটি কমিটি তার কর্ম পরিকল্পনা অনুসারে তার কমিটির কার্যকলাপ সম্পন্ন করছে কিনা তা যাচাই করতে অ্যালায়েন্স স্টাফরা পিরিয়ডিক স্পট-চেক করে থাকেন । এই পরিদর্শনগুলো যেকোনো সময়েই ঘোষিত অথবা অ-ঘোষিত হতে পারে । স্পট চেকের উদ্দেশ্য হলো সেইফটি কমিটি যেভাবে রিপোর্ট করে থাকে সে অনুসারে কর্মকান্ডগুলো পরিচালিত হচ্ছে কিনা এবং তাদের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা, শ্রমিক এবং ম্যানেজমেন্টের সাক্ষাৎকার নেয়া এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করা । সেইফটি কমিটি বিশেষ কি কি চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন হয় সেগুলো চিহ্নিত করতে এবং সেগুলো বিষয়ে শিক্ষালাভ করতে এবং সে বিষয়গুলো সমাধানে কি কি করা যায় তা উদ্ভাবনে স্পট-চেক কাজে লাগে ।

সহায়তা কর্মসূচি: কোনো সেইফটি কমিটি যদি তাদের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা বোধ করে অথবা বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়ে তাহলে অ্যালায়েন্স অথবা অনুমোদিত থার্ড পার্টির নিকট থেকে অতিরিক্ত সহায়তা পাবে।

ব্র্যান্ড নোটিফিকেশন: অ্যালায়েন্স সদস্য কোম্পানিকে তাদের কারখাগুলোর সেইফটি কমিটির গঠন এবং কমিটির কার্যক্রম অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করা হয় যেন তারা ফলো-আপ এবং সহায়তা প্রদান করতে পারে । ব্র্যান্ড প্রতিনিধিদের অবহিতকরণ করা হয় এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় যেন তারা বাস্তবায়ন, ফলো-আপ এবং স্পট চেকে সহায়তা প্রদান করতে পারে ।

অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন

বিস্তারিত এফএকিউ –এ দেখুন অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর

দ্রুত যোগাযোগ

অনুগ্রহপূর্বক সাধারণ এবং গণমাধ্যম ঊভয় অনুসন্ধানের জন্য এখানে ক্লিক করুন ।