Alliance for Bangladesh Worker Safety

বাংলা

নতুন প্রতিবেদনে সংস্কারের অগ্রগতি, শ্রমিক জরিপে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর অ্যালায়েন্সের আলোকপাত

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫

কারখানা নিরাপত্তা, সংস্কার কাজের জন্য অর্থায়ন এবং শ্রমিক ক্ষমতায়ন অ্যালায়েন্সের দ্বিতীয় বছরের উল্লেখযোগ্য অর্জন

ওয়াশিংটন, ডি.সি - অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি (অ্যালায়েন্স) আজকে তার দ্বিতীয় বার্ষিক প্রতিবেদন, কারখানা নিরাপত্তা বিষয়ক বিস্তারিত অগ্রগতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত শ্রমিক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রভাব মূল্যায়ন প্রকাশ করতে যাচ্ছে ।

অ্যালায়েন্স তার দ্বিতীয় বছরে, বিশেষ অভিনিবেশসহকারে কারখানা সংস্কারের ওপর আলোকপাত করছে । জুলাইয়ে, ৫০০ এরও বেশি কারখানায় প্রথম দুটি রেমিডিয়েশন ভেরিফিকেশন ভিজিটস ((RVVs), সম্পন্ন হয়েছে, যা অ্যালায়েন্সের স্টাফদের অ্যালায়েন্সের মানদন্ড অনুযায়ী অগ্রগতি এবং মেরামতের কাজ সম্পন্নের বিষয়টি কারখানা ম্যানেজারদের সঙ্গে যাচাইয়ের সুযোগ এনে দিয়েছে । বেশিরভাগ কারখানাই প্রথম RVV-এর সময় তাদের সংস্কার কাজ শতকরা ২১ থেকে ৮০ ভাগ সম্পন্ন করেছে এবং ৬ টি কারখানা চুড়ান্ত পরিদর্শনে সফলতার সহিত উত্তীর্ণ হয়েছে । উল্লেখ্য যে ২০১৫ এর জুলাইয়ে অ্যালায়েন্স সদস্য কোম্পানি ৬৬২ টি কারখানা থেকে পণ্য উৎপাদন করেছে যেখানে কর্মরত রয়েছেন ১.২ মিলিয়ন শ্রমিক ।

“বাস্তবিক পরিমাপযোগ্য অগ্রগতির কাজ এখন পোশাক কারখানাগুলোতে খুব ভালোভাবে চলছে, অ্যালায়েন্সের সঙ্গে আমাদের অংশিদ্বাররা লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের জীবিকার প্রধান উৎস বাংলাদেশ পোশাক শিল্পকে নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং সংস্কার কাজে সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে”, বলেছেন অ্যালায়েন্সের স্বতন্ত্র সভাপতি মাননীয় অ্যালেন টশার ।

এছাড়াও এই প্রতিবেদনে যে বিষয়টির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে তা হলো, কারখানা সংস্কারের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিতকরণে অ্যালায়েন্সের ভূমিকা, যার ভেতর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্স কর্পোরেশন ( আএফসি ) এর সঙ্গে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া চুক্তি এবং ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএইড) এর সঙ্গে অনিস্পাদিত চুক্তির বিষয়টি । আইএফসি চুক্তিতে কারখানা মালিকদের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে সহজ শর্তে ঋণ দানের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন লাভ করেছে, ইউএসএইড কারখানার উন্নয়নের জন্য ১৮ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবে । এই উভয় চুক্তিই করা হয়েছে দ্রুত সংস্কার কাজে অর্থায়নের জন্য, এবং এ দুটি সংস্থ্যায়ই এই প্রথম কারখানাগুলোর সঙ্গে এ ধরণের কাজ নিস্পন্ন করতে যাচ্ছে ।

এই প্রতিবেদনে শ্রমিক ক্ষমতায়নে যে সমস্ত মাইলফলক অর্জিত হয়েছে সে বিষয়গুলোর ওপরেও আলোকপাত করা হয়েছে । টেক্সাস হেল্থ সাইন্স সেন্টার অ্যাট হাউসটন স্কুল অব পাবলিক হেলথ বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালায়েন্স প্রাথমিক অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মূল্যায়ন পরিচালনা করেছে, প্রায় ৪৬০০ শ্রমিকের ওপর অক্রম নির্বাচনের মাধ্যমে জরিপ পরিচালনা করা হয় যারা ইতিপূর্বে অ্যালায়েন্সের প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছে এবং প্রশিক্ষণ গ্রহনের পূর্বে ২০১৩ সালে যে প্রাথমিক জরিপ পরিচালনা করা হয়েছিলো তার সঙ্গে এই জরিপের তুলনা করা হয়েছে । অনুসন্ধানে প্রাপ্ত নিন্মলিখিত তথ্য গুলো প্রকাশ করা হলো:

  • ফায়ার অ্যালার্ম বাজলে কি করণীয়, এর উত্তরে ৭৩% শ্রমিক জানিয়েছেন যে তারা সত্যিকার আগুন লাগলে যা করতেন তাই করবেন, প্রাথমিক জরিপের সময় এই উত্তর দাতার সংখ্যা ছিলো এর প্রায় অর্ধেক (৩৪%),
  • উত্তরদাতার প্রায় ( ৯০%, প্রাথমিক জরিপে এর সংখ্যা ছিলো ৬৭% ) সবাই মনে করেন যে অনিরাপদ কোনো কিছু দেখামাত্র রিপোর্ট করা তাদের অবশ্য কর্তব্য, এবং হতাহতের ঘটনা দেখামাত্র রিপোর্ট করা তাদের অবশ্য কর্তব্য বলে জানিয়েছেন ৮২% শ্রমিক , প্রাথমিক জরিপে এর সংখ্যা ছিলো ৫১% ।
  • ৮৪% শ্রমিক মনে করেন যে পণ্য উৎপাদনের ব্যস্ত সময়ে ফায়ার ড্রিল না করাই ভালো, (প্রাথমিক জরিপে এই উত্তর দিয়েছিলেন ৩৭% শ্রমিক )

এছাড়াও অ্যালায়েন্স কারখানার সিকিউরিটি গার্ডদের প্রশিক্ষণ প্রদান বিষয়ক হালনাগাদ প্রকাশ করছে, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সিকিউরিটিগার্ডরা জরুরি মুহুর্তে শ্রমিকদের ভবন ত্যাগে সহায়তায় যেন অনবদ্য ভূমিকা রাখতে পারে সে জন্য এই প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে; জুলাই ২০১৫ এর ভেতর ১৩,৮০০ জন শ্রমিককে এই বিশেষ নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে ।

“নিরাপদ এবং আরও বেশি উৎপাদন সক্ষম কারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্যে, প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে পোশাক শিল্প শ্রমিকদের ক্ষমতায়নের এই প্রচেষ্টায় আমরা গর্বিত,” বলেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং অ্যালায়েন্সের নির্বাহি পরিচালক জেমস মরিয়ার্টি । “আর এটা করতে গিয়ে আমরা শ্রমিক নিরাপত্তা এবং শ্রমিক ক্ষমতায়ন-এর একটি মানদন্ড প্রনয়ন করেছি এবং আমরা আশা করছি বাংলাদেশের সমস্ত পোশাক শিল্প এই মানদন্ড অনুসরণ করবে” ।

প্রশিক্ষণ প্রভাব মূল্যায়ন এবং ইনফোগ্রাফিক

অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন

বিস্তারিত এফএকিউ –এ দেখুন অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর

দ্রুত যোগাযোগ

অনুগ্রহপূর্বক সাধারণ এবং গণমাধ্যম ঊভয় অনুসন্ধানের জন্য এখানে ক্লিক করুন ।