Alliance for Bangladesh Worker Safety

বাংলা

অ্যালায়েন্স এবং অ্যাকর্ড উভয়ের জন্য যে সমস্ত কারখানা পণ্য উৎপাদন করে থাকে সে সমস্ত কারখানায় অ্যালায়েন্সের পরিদর্শন প্রতিবেদন অ্যাকর্ড কতৃক প্রত্যাক্ষানের সিদ্ধান্তের ওপর অ্যালায়েন্সের সভাপতি অ্যালেন টশারের বিবৃতি ।

অ্যালায়েন্স প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত এক বছরে কারখানার নিরাপত্তা উন্নয়নে অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করেছে । অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি, দি অ্যাকর্ড অন ফায়ার এন্ড বিল্ডিং সেফটি এবং বাংলাদেশ সরকার কারখানাগুলোতে পরিদর্শন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে । এখনও অনেক কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে, যেমন স্থানীয়ভাবে সামর্থবৃদ্ধিকরণ, শ্রমিকদের ক্ষমতায়ন, পুঙ্খানুপুঙ্খ সংস্কার কাজ নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপত্তা উন্নয়ন বাস্তবায়নের ব্যায়ভার শ্রমিক এবং কারখানার ওপর থেকে কমিয়ে ফেলা ।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবশ্যই সমাধানে আসতে হবে যে অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্স উভয়ের জন্য পণ্য উৎপাদনকারী কারখানাগুলোতে কিভাবে পরিদর্শন সম্পন্ন করতে হবে । শুরু থেকেই আমরা যৌথভাবে একটি প্রটোকোল তৈরির পক্ষে কথা বলে আসছি এবং নিরাপত্তা মানদন্ডটি এমনভাবে তৈরি হওয়া উচিৎ যেনো উভয়ের জন্য পণ্য উৎপাদনকারী কারখানাগুলো  নিশ্চিত হতে পারে  যে মালিক এবং শ্রমিকদের যেনো দুবার পরিদর্শনের মুখোমুখি না হতে হয় । অ্যাকর্ডের সাম্প্রতিক একটি ঘোষণা থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে অ্যালায়েন্স প্রতিষ্ঠার পূর্বে অ্যালায়েন্স সদস্য ব্র্যান্ড কতৃক যে পরিদর্শন গুলো হয়েছে সেগুলো তারা প্রত্যাখ্যান করবেন । বাংলাদেশ পোশাক কারখানার নিরাপত্তা প্রচেষ্টায় এটি একটি বাধা, এবং একটি ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই কাজটি করা হয়েছে । যেখানে অ্যাকর্ড নিজেই তাদের একটি ব্র্যান্ডের প্রি-স্ট্যান্ডার্ড পরিদর্শন অনুমোদন করেছে ।

এ বছরের জুলাইতে আমাদের ঘোষণা অনুসারে অ্যালায়েন্স প্রায় ৬০০ টি কারখানায় তার প্রথম পর্বের পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে – এর শতভাগ কারখানাই অ্যালায়েন্স সদস্য ব্র্যান্ডের জন্য পণ্য উৎপাদন করে থাকে । এর অধিকাংশই পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশের সাতটি কোয়ালিফাইড অডিট ফার্মের একটি, এই ফার্মগুলো অ্যালায়েন্স কতৃক নিয়োগপ্রাপ্ত এবং এই পরিদর্শনের তত্বাবধানে ছিলেন  অ্যালায়েন্স কর্মকর্তাগন । অ্যালায়েন্সের ওয়েব সাইটে এই রিপোর্টগুলো প্রকাশিত হয়েছে । স্বল্প কয়েকটি ব্র্যান্ড তাদের ফার্ম গুলো দ্বারা সমন্বিত মানদন্ড প্রনয়নের পূর্বে স্বল্প কিছু পরিদর্শন শুরু করেছিলো, এবং অতিরিক্ত উপাত্ত সংগ্রহের জন্য অথবা প্রাপ্ত তথ্যের বৈধতা প্রদানের জন্য  অ্যালায়েন্স অনুমোদিত সাতটি ফার্মের একটি দ্বারা  তারা ফলো-আপ ভিজিট করিয়েছিলো যেনো রিপোর্টটি অ্যালায়েন্সের ইকোয়িভেলেন্সি রিকোয়ারমেন্টস –এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় ।

অ্যালায়েন্সের একটি কঠোর ইকোয়াভেলেন্সি প্রক্রিয়া রয়েছে যেখানে আমাদের সমস্ত সদস্য ব্র্যান্ডগুলোকে পরিদর্শনের জন্য সমন্বিত নিরাপত্তা মানদন্ড মেনে চলতে হবে যে মানদন্ডটির ব্যাপারে অ্যালায়েন্স অ্যাকর্ড এবং ন্যাশনাল ট্রাইপারটাইট কমিটি(এনটসি) একমত পোষণ করেছে – এবং যে সমস্ত পরিদর্শন নতুন মানদন্ড প্রনয়নের পূর্বেই সংগঠিত হয়েছে সেগুলোকেও এই প্রক্রিয়ার ভেতর অন্তর্ভুক্ত । এই ধরণের পরিদর্শন অবশ্যই সেই সমস্ত ফার্ম দ্বারা করাতে হবে যেগুলোর প্রক্রিয়াসমূহ এবং জ্ঞান ও দক্ষতা আমাদের বিশেষজ্ঞ কমিটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেবে  । ওপরন্তু, এই পরিদর্শনগুলো স্বতন্ত্র তত্বাবধান এবং আমাদের মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার অধিনে থাকবে । অ্যালায়েন্স প্রকৌশলীগণ, বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ ফার্ম এগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করবে । এই ব্যাপক পর্যালোচনা এবং মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার পর, আমরা সঠিকভাবে নির্নয় করতে পেরেছি যে অ্যালায়েন্সের তিন সদস্য কতৃক পরিচালিত বিদ্যমান পরিদর্শন গুলো অ্যালায়েন্সের মানদনন্ড এবং পক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ । অন্যান্য যে সমস্ত পরিদর্শন সমন্বিত মানদন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় সেগুলো অ্যালায়েন্স পুনরায় পরিদর্শন করবে । শুধু মাত্র এই একটি উপায় অবলম্বন করে অ্যালায়েন্স এই আত্নবিশ্বাস রাখতে পারে যে যে সমস্ত পরিদর্শন পরিচালিত হচ্ছে সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে, পেশাদার এবং স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে ।

অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনের ব্যাপারে অ্যাকর্ড যে আপত্তির ইঙ্গিত দিয়েছে তা হলো “পদ্ধতিগ উদ্বেগ”, যদিও অ্যাকর্ডের সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক যোগাযোগ স্বত্তেওতারা এখন পর্যন্ত আমাদের নিকট তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেননি এবং বাস্তবতা হলো অনেক মাস আগে আমরা তাদেরকে আমাদের পরিদর্শন প্রটোকোল শেয়ার করলেও এখন পর্যন্ত আমরা তাদের কাছ থেকে কিছুই পায়নি ।

অ্যালায়েন্স তার গতি অব্যাহত রেখে চলেছে  এবং নতুন নতুন মাইলফলক অর্জন করে চলেছে  । এছাড়া অ্যালায়েন্স তার প্রথম বছরে প্রথম পর্বের পরিদর্শন সম্পন্ন করা ছাড়াও প্রায় এক মিলিয়ন শ্রমিককে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে । ভবন এবং অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক এক্সপো-এর মতো একটি যৌথ উদ্যোগের নেতৃত্ব প্রদান করেছে, হেল্পলাইন প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ৫০% কারখানার কাজ শুরু করেছে । এছাড়াও আমরা কারখানা সংস্কারের কারণে কর্মচ্যূত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছি । কারখানার মালিকদের সাথে যৌথভাবে আমরা চার মাস পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিয়েছি । এই সমস্ত কার্যক্রমের বিস্তারিত দেয়া আছে আমাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে যা অ্যালায়েন্সের ওয়েব সাইট www.bangladeshworkersafety.org – এ পাওয়া যাবে ।

অধিক কার্যকারিতা সম্পন্ন পরিদর্শন প্রক্রিয়া এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সামর্থ সৃষ্টি করতে হলে অ্যালায়েন্স, অ্যকর্ড এবং বাংলাদেশ সরকারের ভেতর একটি সুচিন্তাশীল এবং সম্মানজনক সহযোগীতামূলক সম্পর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি, যা আমাদের এই পাঁছ বছরের প্রচেষ্টার শেষেও অনেক বছর পর্যন্ত কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য কার্যকরি থাকবে । আমরা অব্যাহতভাবে  আমাদের পরিদর্শনগুলোকে  এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও যেমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং যৌথ উপদেষ্টা পর্ষদ গঠনকে অনুমোদনের জন্য অ্যাকর্ডকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছি । আমরা বিশ্বাস করি যে ,আমরা যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারি তাহলে আমরা আমাদের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ পুরণে সমর্থ হবো যা বাংলাদেশের সকল পোশাক কারখানায় একটি স্থায়ী পরিবর্তন এবং উন্নয়ন ঘটাবে ।

অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন

বিস্তারিত এফএকিউ –এ দেখুন অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর

দ্রুত যোগাযোগ

অনুগ্রহপূর্বক সাধারণ এবং গণমাধ্যম ঊভয় অনুসন্ধানের জন্য এখানে ক্লিক করুন ।