Alliance for Bangladesh Worker Safety

বাংলা

অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেইফটি কারখানা নিরাপত্তা, শ্রমিক ক্ষমতায়নে অভাবিত অগ্রগতি অর্জনের ঘোষণা প্রদান করছে

.

প্রথম ত্রৈমাসিক প্রেস কনফারেন্সে, অ্যালায়েন্স এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রাষ্ট্রদূত জিম মরিয়ার্টির মন্তব্য

ঢাকা, বাংলাদেশ – আজকে, অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেইফটি (অ্যালায়েন্স ) বাংলাদেশের শত শত তৈরি পোশাক কারখানার সংস্কার এবং নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের অগ্রগতি বিষয়ক হালনাগাদ ঘোষণা করার লক্ষ্যে প্রথম ত্রৈমাসিক প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করছে । নিম্নে উল্লিখিত উদ্ধৃতাংশগুলো নেয়া হয়েছে অ্যালায়েন্স এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রাষ্ট্রদূত জিম মরিয়ার্টির মন্তব্য থেকে ।

“আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমরা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা উন্নয়নে অভাবিত অগ্রগতি লাভ করেছি । আমাদের কারখানা সংস্কার কাজ খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এবং বছর শেষে আমাদের যে প্রতিশ্রুতি ছিলো সে অনুসারে আমরা সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছি ।

“এ যাবত পর্যন্ত, ৩২২টি অ্যালায়েন্স কারখানা তাদের সংশোধনী কর্ম পরিকল্পনায় উল্লেখিত সমস্ত কাজ সম্পন্ন করেছে এবং পর্যাপ্ত সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছে । সমস্ত সক্রিয় কারখানায় ৮৮% সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যার ভেতর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৮৪% জীবনের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সংস্কার কাজ ।

“এই প্রসঙ্গে, পাঁচ বছর আগে কারখানাগুলোর নিরাপত্তা কেমন ছিলো এবং বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন তার কয়েকটি উদাহরণ নিম্নে দেয়া হলো:

  • সব মিলিয়ে, ২৯০টি কারখানার অবকাঠামোগত রেট্রোফিটিং এর প্রয়োজন ছিলো । তার ভেতর ২৬৪ টি কারখানা অর্থাৎ ৯১% - সম্পূর্ণভাবে রেট্রোফিটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে, অর্থাৎ তাদের ফাউন্ডেশন, কলাম এবং বিম বর্তমানে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল বিল্ডিংয়ের আরোপিত লোডের চাহিদা পূরণে সক্ষম ।
  • একইভাবে, ১৪১ টি কারখানার স্প্রিংকলার সিস্টেম স্থাপন করার প্রয়োজন ছিলো । তার ভেতর ১১৮ টি কারখানায় – অর্থাৎ ৮৪% তাদের স্থাপন কাজ সম্পন্ন করেছে । এই সিস্টেম স্থাপনের কারনে শ্রমিকরা এখন আগুন থেকে নিজেদের রক্ষা করতে বেশি সময় পায়, এবং তারাও অগ্নকান্ডের একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় আগুন নেভাতে পারে, ফলে শ্রমিক এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের ঝুঁকি কমে আসে ।
  • বর্তমানে প্রায় সমস্ত কারখানাই তাদের সেকেলে বৈদ্যূতিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়েছে এবং প্রায় সব কারখানাই ফায়ার ডোর স্থাপন করেছে ফলে শ্রমিকদের জন্য বহির্গমন পথের ব্যবস্থা হয়েছে এবং এটি আগুনের ছড়িয়ে যাওয়া রোধ করে ।

“এই সমস্ত অগ্রগতি, শুধুমাত্র শ্রমিকদের নিরাপত্তা কিংবা তাদের কল্যাণের জন্যই যে উপকারি তা নয়, এগুলো ব্যবসার জন্যও ভালো । উন্নয়নকৃত কারখানাগুলো সারা বিশ্বের নিকটি একটি বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার হিসেবে পরিগনিত হবে, এবং এটি জীবন, সম্পদ এবং পণ্য ধ্বংসকারি দুর্ঘটনা রোধ করবে, যা মূলত মানুষের জীবন এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে ।

“কিন্তু কারখানার নিরাপত্তায় সত্যিকারের বিপুল পরিবর্তন অর্জন করা কারখানাগুলোতে সংস্কার কাজের চেয়ে অনেক বেশি কিছু । আমরা অভিনিবেশসহকারে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের এবং কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি ।

“প্রথমত, আমাদের গোপন, সপ্তাহে ৭ দিন, ২৪ ঘন্টা চালু হেল্পলাইন, ‘আমাদের কথা ‘ প্রায় ১০০০ কারখানার ১.৪ মিলিয়নেরও বেশি শ্রমিকের নিকট পৌঁছে গেছে ।

“বাংলাদেশে এই প্রথম এই ধরনের অ্যালায়েন্স হেল্পলাইন শ্রমিকদের নিকট থেকে প্রায় ২০০,০০০ এরও বেশি কল গ্রহন করেছে - ২০১৭ সালের প্রতি মাসে গড়ে কল এসেছে ৫,২০০ টি । এবং এ থেকেই বোঝা যায় শ্রমিকদের নিকট এর গ্রহনযোগ্যতা এবং এর মূল্য কত । ঠিক গত মাসেই, হেল্পলাইনে শ্রমিকদের নিকট থেকে ২৯টি কল এসেছে একটি ফার্নিচার ফ্যাক্টরির ভেতরের অগ্নিকান্ড নিয়ে যা অ্যালায়েন্স-অন্তর্ভুক্ত ফ্যাক্টরি নয় – এবং এ থেকেই বোঝা যায় সারা বাংলাদেশ জুড়ে এবং আরএমজি ইন্ডাস্ট্রির বাইরেও শ্রমিকদের নিকট এটি কতটা বিস্তার লাভ করেছে ।

“এর মধ্যে, শেষ ১২ মাসে, গড়ে ৩০টি কল – যা সব কলের ০.৬% - যা কারখানার জরুরি নিরাপত্তা ইস্যূর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, অনেক সময় একই সমস্যা নিয়ে একাধিক শ্রমিক ফোন দিয়ে থাকেন, এবং এটি তারই প্রতিফলন । কারখানার নিরাপত্তার সমস্যার বাইরেও শ্রমিকরা হেল্পলাইন ব্যবহার করে অগ্নিকান্ড থেকে শুরু করে কারখানা ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে । হেল্পলাইনে রিপোর্ট করা অধিকাংশ কলেরই সমাধান ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হয়ে যায় ।

“এরপর হলো আমাদের অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ – এবং বাংলাদেশে এ ধরণের প্রশিক্ষণ এই প্রথম – এবং বাংলাদেশের কারখানার কর্মিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশিক্ষণ । এ যাবত পর্যন্ত, আমরা ১.৫ মিলিয়ন শ্রমিকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি যারা কারখানার সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করতে সক্ষম এবং জরুরি মুহুর্তে নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম । সংশোধনি কর্ম পরিকল্পনা সম্পন্ন করতে কারখানাগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক, এবং আজ পর্যন্ত, আমরা ১,০০০ এরও বেশি কারখানায় প্রাথমিক প্রশিক্ষণ এবং রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি ।

“তৃতীয়ত, আমরা ২৭,০০০ জনেরও বেশি সিকিউরিটি গার্ডকে জরুরি মুহুর্তে সম্পদ নয়, জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ দিয়েছি । আমরা বাংলাদেশের ১৭টি সিকিউরিটি গার্ড কোম্পানির ম্যানেজারদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি যারা তৈরি পোশাক শিল্পের ভেতরে এবং বাইরে প্রশিক্ষণ দিতে পারবে ।

“চতুর্থত, আমরা কারখানা ম্যানেজারদের জন্য পারস্পরিক অংশগ্রহনমূলক, অর্ধ দিবস একটি প্রশিক্ষণ অধিবেশন চালু করেছি, এই প্রশিক্ষণ এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন কারখানার ম্যানেজাররা তাদের কারখানাগুলোতে নিরাপত্তা বিষয়ে নেতৃত্ব প্রদান করতে পারবে যা শুধু মাত্র অ্যালায়েন্সের সঙ্গে ব্যবসা করার শর্তই পুরণ করবেনা বরং তা তাদের নিজেদের ব্যবসার জন্যও অপরিহার্য ।

“আমরা জানি যে, একটি কারখানায় যেখানে ফ্যাব্রিক এবং ভারি যন্ত্রপাতি আছে, সেখানে সবসময়ই আগুনের ঝুঁকি থাকে । কিন্তু এই সব প্রশিক্ষণের কারনে নিরাপত্তা বিষয়ে যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে এবং ম্যানেজাররা যে নিরাপদ কাজের অনুশীলন করছে তাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ সক্ষম হচ্ছে ।

“গত বছর অ্যালায়েন্স কারখানায় ৩৯টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে, ম্যানেজার, সিকিউরিটি গার্ড এবং শ্রমিকরা দ্রুত সাড়া প্রদান করে এবং অ্যালায়েন্স প্রশিক্ষণ অনুসারে দ্রুত কারখানা ভবন থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে যায়, ফায়ার ব্রিগেড এবং অ্যালায়েন্স হেল্পলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে, যার ফলে কোনো নিহত, বা আহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি কিংবা কারখানার সম্পদের সামান্যতম ক্ষতিও হয়নি ।

“সবশেষে, আমরা ১৭২টি কারখানার সঙ্গে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ওয়ার্কার সেইফটি কমিটি গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি । এই কমিটির মাধ্যমে শ্রমিকরা তাদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা কমপ্লায়েন্স মনিটরিং করার জন্য অধিকার লাভ করবে ।

“এইসব অর্জন দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে, এগুলো অবশ্যই স্থানীয় নেতৃত্বে পরিচালিত হতে হবে, অর্থাৎ বাংলাদেশের নেতৃত্বে পরিচালিত হতে হবে । সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সকল পক্ষকেই অবশ্যই প্রতিশ্রুতবদ্ধ হতে হবে যে সারাদেশ জুড়ে কারখানাগুলোতে নিরাপত্তা কোনো ব্যতিক্রম বিষয় নয়, বরং এটি একটি আইন ।

“আমরা অতীতে ঘোষণা দিয়েছিলাম যে, এ বছরের শেষ নাগাদ অ্যালায়েন্স এর কার্যক্রম হস্তান্তরিত হবে সেইফটি মনিটরিং অরগানাইজেশন এর নিকট যা পরিচালিত হবে একটি বিশ্বাসযোগ্য, আস্থাশীল, স্থানীয় অংশীদারের নিকট যা হবে স্বচ্ছ, বস্তুনিষ্ঠ । এই সংস্থ্যা কারখানার পরিদর্শন, মনিটরিং এবং আমাদের অত্যন্ত সফল হেল্প লাইন এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির তত্ত্বাবধান অব্যাহত রাখবে ।

“যে কারনে আমরা হস্তান্তরে সক্ষম হবো । প্রায় ৯০% সংস্কার কাজ সম্পন্ন, এবং আমাদের শ্রমিক ক্ষমতায়নের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে এবং তা সমস্ত কারখানার কর্মীদের নিকট গ্রহনযোগ্য হয়েছে ।

“আমাদের বর্তমান দায়িত্ব হলো আমাদের জ্ঞান হস্তান্তর করা, উত্তম অনুশীলন এবং শ্রমিক নিরাপত্তা নতুন অংশিদারের নিকট হস্তান্তর যারা স্থানীয়ভাবে এই কাজ অব্যাহত রাখতে এবং পরিচালনা করতে সক্ষম হবে, এবং এই একটি মাত্র কারনেই এটি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে সক্ষম হবে ।

“এ বিষয়ে কোনো ভুল করা যাবেনা: অ্যালায়েন্স সদস্য কোম্পানিগুলো নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ । নতুন সেইফটি মনিটরিং অরগানাইজেশন, যার অধিকাংশই সদস্য কোম্পানি কর্তৃক অর্থায়ন হবে, অ্যালায়েন্স কর্তৃক বাস্তবায়িত উচ্চ নিরাপত্তা মানদন্ড কারখানাগুলো পুরণ করছে কিনা তা মনিটরিং অব্যাহত রাখবে ।

“আমরা এই হস্তান্তরের বিস্তারিত সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকার, বিজিএমইএ, আইএলও এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ করছি, এবং আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত পরবর্তী সপ্তাহগুলোয় ঘোষণা দিতে পারবো বলে আশা প্রকাশ করছি ।

অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন

বিস্তারিত এফএকিউ –এ দেখুন অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর

দ্রুত যোগাযোগ

অনুগ্রহপূর্বক সাধারণ এবং গণমাধ্যম ঊভয় অনুসন্ধানের জন্য এখানে ক্লিক করুন ।