Alliance for Bangladesh Worker Safety

বাংলা

অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে

.

ওয়াশিংটন — মাননীয় অ্যালেন ও’কেন টশার, অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি ( অ্যালায়েন্স )-এর স্বতন্ত্র সভাপতি, ইন্টারন্যাশনাল লেবার রাইট ফোরাম, ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইন, ওয়ার্কার রাইট কনসোর্টিয়াম এন্ড ম্যাকুইলা সলিডারিটি নেটওয়ার্ক কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ নিম্নলিখিত বিবৃতি প্রকাশ করেছেন, প্রতিবেদনের বিভিন্ন জায়গায়, অ্যালায়েন্স এবং বাংলাদেশ অ্যাকর্ড অন ফায়ার এন্ড বিল্ডিং সেফটি ( অ্যাকর্ড )-এর বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিরাপত্তা উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে খাটো করে দেখা হয়েছে এবং ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে । গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রতিবেদনে যে সমস্ত কারখানাগুলোকে হাইলাইট করা হয়েছে সেগুলো অ্যালায়েন্স এবং অ্যাকর্ড উভয়ের জন্যই পণ্য উৎপাদন করে ।

 “কোনো সন্দেহ নেই যে লক্ষ লক্ষ নারী এবং পুরুষের প্রতিদিনের জীবিকা অর্জনের ক্ষেত্র বাংলাদেশি কারখানাগুলোর কাঠামোগত শুদ্ধতা জোরদারকরণে অ্যালায়েন্স বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে । আমরা বাস্তব কর্ম এবং ফলাফলের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কর্মস্থলের নিরাপত্তা উন্নয়নে আমাদের এই দৃঢ় প্রতিশ্রুতিকে প্রমান করেছি ।

  • উন্নয়ন : আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে অ্যালায়েন্স-কমপ্লায়েন্ট কারখানার প্রায় ১.৩ মিলিয়ন শ্রমিক অ্যালায়েন্স গঠন হওয়ার পূর্বের সময়ের চাইতে এখন অনেক বেশি নিরাপদ, এবং আমরা আমাদের এই অগ্রগতিকে তীব্রতর করতে আরও অধিক মনোনিবেশ করেছি । অ্যাকর্ডের মতই অ্যালায়েন্স এবং আমাদের সদস্য কোম্পানিগুলো একই লক্ষ্যে কাজ করছে তা হলো বাংলাদেশি পোশাক শিল্প শ্রমিকদের জন্য একটি অধিকতর নিরাপদ ভবিষ্যত নির্মান করা । আগামী ১৮ মাসে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা অ্যাকর্ড, ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতবদ্ধ রয়েছি ।  
  • স্বচ্ছতা : এই প্রতিবেদনে ভুল চিত্র প্রকাশিত হয়েছে, কেননা, অ্যাকর্ডের সঙ্গে আমাদের একটি খোলামেলা এবং চলমান সম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং আমরা তাদের সঙ্গে কারখানা সংস্কারে ঘনিষ্টভাবে কাজ করছি । যৌথ কারখানাগুলোর যে কোনো এবং সবধরণের সমস্যা পর্যালোচনার জন্য আমরা অ্যাকর্ডের প্রকৌশলি এবং নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মাসিক ভিত্তিতে আলোচনায় বসি । কেউ কেউ আমাদের এই দুই সংস্থ্যার ভেতর অস্বাস্থ্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে বলে মিথ্যা ধারণা প্রতিষ্ঠিত করতে চায় । আমরা লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিকদের পক্ষ হয়ে কারখানার নিরাপত্তা উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি ।
  • সত্যতা যাচাই : কারখানা সংস্কার কাজের অগ্রগতিতে আমাদের যে বিশ্লেষণ তা যোগ্যতাসম্পন্ন এবং প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত প্রকৌশলিদের সিদ্ধান্তের প্রতিফলন যাঁরা কারখানাগুলোতে সঠিক অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জাম রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কারখানাগুলোর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, কারখানা পরিদর্শন করছে এবং অগ্রগতি যাচাই করছে । এই পরিদর্শনগুলো অত্যন্ত কঠোর, এবং আজ পর্যন্ত, সংস্কার কাজে অগ্রগতি প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ার কারণে আমরা ১০১টি কারখানার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থগিত করেছি – যা ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান এবং অ্যাকর্ড কর্তৃক স্থগিতকৃত কারখানা সংখ্যার চেয়ে বেশি ।
  • বাহ্যিক বাধা মোকাবেলা :কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার প্রক্রিয়ায় অনেক জটিলতা দেখা দেয় যেমন কারখানায় টেকসই নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনে অনেক সময় ধারণার চেয়েও বেশি সময় নিয়ে থাকে । উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যেহেতু বাংলাদেশে অ্যালায়েন্স মানদন্ড পূরণ করে এমন স্প্রিংকলার স্থানীয়ভাবে তৈরি হয়না, আমরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সেগুলো আমদানি করতে সরবরাহকারিদের সহায়তা করছি । বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশিদ্বারিত্বের ভিত্তিতে, আমরা আন্তর্জাতিকভাবে রেটেড ফায়ার সেফটি দরজার শিপমেন্ট প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং এই সরঞ্জামের ওপর যে আমদানি শুল্কের বোঝা রয়েছে তা দূর করতে কাজ করে যাচ্ছি |
  • পাঁচ বছরের উদ্যোগ : বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিত অত্যন্ত জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং । আমরা আশা পোষণ করছি যে আমাদের সংস্কার কাজের অধিকাংশই ২০১৮ সালের ভেতর সম্পন্ন হয়ে যাবে – যা ছিলো আমাদের মূল পরিকল্পনা । আমরা যে বিষয়টির ওপর জোর প্রদান করে আসছি তা হলো সংস্কার কাজে শেষ বলে কিছু নেই, এটি একটি অব্যাহত যাত্রা । কারখানাগুলোকে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের ২০১৮ সালের পর এই নিরাপত্তা সংস্কৃতি অব্যাহত রাখার জন্য অবশ্যই এই দায়িত্বভার গ্রহন করতে হবে |

অ্যালায়েন্স তার অগ্রগতির ওপর দাড়িয়ে আছে, যা যোগ্যতাসম্পন্ন স্থানীয় প্রকৌশলী এবং পেশাদার কর্মকর্তাদের একটি টিম কর্তৃক যাচাইকৃত, এবং আমরা বাংলাদেশি কারখানাগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতবদ্ধ যেখানে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক তাদের দৈনন্দিন জীবিকা অর্জন করে থাকে । এনজিও এবং স্টেকহোল্ডারদের পাশাপাশি অ্যালায়েন্স, অ্যাকর্ড, এবং বাংলাদেশ সরকারকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অবশ্যই একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে । উদ্যোগসমূহের ভেতর পক্ষপাতিত্ব আচরণ শুধুমাত্র ভুল ধারণারই জন্ম দেবে যা শ্রমিকদের নিরাপত্তা উন্নয়নে আমাদের সামষ্টিক প্রচেষ্টার ভিত্তিকে দুর্বল করে ফেলবে ।

 

অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন

বিস্তারিত এফএকিউ –এ দেখুন অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর

দ্রুত যোগাযোগ

অনুগ্রহপূর্বক সাধারণ এবং গণমাধ্যম ঊভয় অনুসন্ধানের জন্য এখানে ক্লিক করুন ।