Alliance for Bangladesh Worker Safety

বাংলা

অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি –এর সংস্কার, কারখানা স্ট্যাটাস এবং শ্রমিক ক্ষমতায়ন বিষয়ক ২য় ত্রৈমাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ

.

ঢাকা - আজকে, অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি ( অ্যালায়েন্স ) কারখানা সংস্কার এবং শ্রমিক ক্ষমতায়ন উদ্যোগ বিষয়ক ত্রৈমাসিক অগ্রগতি হালনাগাদ প্রদান করছে । নিম্নে বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস মরিয়ার্টি, অ্যালায়েন্স কান্ট্রি ডিরেক্টরের প্রস্তুতকৃত মন্তব্য দেয়া হলো ।

অ্যালায়েন্স এবং বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা উন্নয়নে আমাদের উদ্যোগ সম্পর্কে আরও বেশি তথ্য পাবেন আমাদের ওয়েবসাইট-এ www.bangladeshworkersafety.org.

***

রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টির প্রস্তুতকৃত মন্তব্য :

শুভ সকাল এবং সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ অ্যালায়েন্সের অগ্রগতির হালনাগাদ বিষয়ক আমাদের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক ফোনকল আলোচনায় অংশগ্রহনের জন্য ।

শুরুতেই, ঢাকায় সাম্প্রতিক হিংস্র আক্রমনে নিহতদের, প্রিয়জন হারানো শোকগ্রস্তদের, আহত এবং আক্রমনে বিচলিত কম্যুনিটি সদস্যদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি ।

গত এপ্রিলে ভয়ঙ্করভাবে নিহত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কর্মচারীর সঙ্গে আমার অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল । যার কারণে, এখন যারা এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রিয়জন হারিয়েছেন আমি তাদের এই অপূরনীয় ক্ষতি এবং বেদনার মর্ম উপলব্ধি করতে পারছি । অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে, আমাদের সদস্য কোম্পানি, আমাদের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমি বাংলাদেশী জনগণের মনোবলের প্রতি আন্তরিক এবং বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি, এবং আমি বিশ্বাস করি যে তাদের এই দৃঢ় মনোবল এই কঠিন সময় উত্তরণে তাদের সহায়তা করবে ।

এই বেদনাদায়ক দূর্ঘটনা সত্ত্বেও, অ্যালায়েন্স এবং আমাদের সদস্য কোম্পানিগুলো তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে- কেননা বাংলাদেশ পোশাক শিল্প খাতে কর্মরত লক্ষ লক্ষ নারী এবং পুরুষের নিরাপত্ত উন্নয়ন একটি নৈতিক অবশ্যপালনীয় কর্তব্য ।

আমি ঢাকা থেকে এই ফোনকলে অংশগ্রহন করছি । আমি আমাদের মেধাবি কর্মদক্ষতাসম্পন্ন দলকে, এবং পাশাপাশি অন্যান্য বাংলাদেশিদের যারা বাংলাদেশ পোশাক শিল্পকে নিরাপদ করার জন্য অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের সহায়তার জন্য ঢাকায় এসেছি গত শনিবার ।

আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং ঠিকাদারদের নিরাপদ রাখার জন্য যেহেতু আমরা আমাদের নীতিমালার পর্যালোচনা এবং হালনাগাদ করি, সেহেতু আমরা বাংলাদেশ পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা উন্নয়নের কাজ পূর্ণ গতিতে অব্যাহত রাখবো ।

অবশেষে, কারখানার নিরাপত্তা উন্নয়ন সংক্রান্ত বেশকিছু ইতিবাচক অগ্রগতি আপনাদের অবহিত করতে চাই ।

প্রথমত, সংস্কার প্রসঙ্গে বলতে চাই: আজকের হিসাব পর্যন্ত, ২৮ টি কারখানা তাদের সংশোধনী কর্ম পরিকল্পনা ( কারেকটিভ অ্যাকশন প্ল্যান) বা CAP সম্পন্ন করেছে – সম্পন্নকরণের হার বিগত ফোন কলের ওই সময়ের তুলনায় শতকরা ১৭ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে ।

জীবনের জন্য মারাত্নক ঝুঁকি এমন সমস্যার এক তৃতীয়াংশের বেশি সমাধান সম্পন্ন হয়েছে সবগুলো কারখানাতেই নির্দিষ্ট সময়সীমার দু্’বছর আগেই ।

আপনার হয়ত জানেন, আমরা পরিদর্শন, বিশদ সংশোধনী কর্ম পরিকল্পনা, এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন করার জন্য কারখানা মালিকদের নির্দেশনা এবং সহায়তার লক্ষ্যে স্বল্প-সুদে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করি ।

আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংস্কার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করি – এবং যে সমস্ত কারখানা তাদের গুরুতর সমস্যাগুলো সংশোধনে অনিহা প্রকাশ করে অথবা ব্যর্থ হয় সে সমস্ত কারখানাগুলোর সঙ্গে আমরা ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থগিত করি ।

প্রথম ত্রৈমাসিক কল সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে, আরও অতিরিক্ত ৬ টি কারখানাকে সংস্কার কাজে পর্যাপ্ত অগ্রগতি ব্যর্থ হওয়ায় স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে – এখন সব মিলিয়ে ৮৩ টি কারখানাকে স্থগিত করা হয়েছে । আপনারা ভুল বুঝবেন না – তৈরি পোশাক শিল্পকে অধিকতর নিরাপদ কারখানায় রূপান্তর করার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি ।

এছাড়াও সম্প্রতি আমরা কারখানা মালিক, বিজিএমইএ, অ্যাকর্ড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কিভাবে আমরা কারখানার অগ্রগতির মূল্যায়ন করি সে বিষয়ক হালনাগাদ করেছি ।

পূর্বে, আমরা সংস্কার কাজের অগ্রগতি নির্ধারণ করতাম শুধুমাত্র কতগুলো নিরাপত্তা বিষয়ক সমস্যা সম্পূর্ণরূপে সমাধান হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে । একারণে কখনও কখনও এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হতো যে কারখানার মালিকরা নিজেদের সযত্ন প্রয়াস থাকা সত্ত্বেও তাদের নিয়ন্ত্রণের নেই এমন সব পরিস্থিতির কারণে দন্ড প্রাপ্ত হতেন –যেমন সংস্কার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে বিলম্ব হওয়া ।

কারখানার স্ট্যাটাসে যে বিষয়টির প্রতিফলন ঘটে তা হলো ২০১৮ সালের জুলাই এর মধ্যে অর্থাৎ অ্যালায়েন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত কারখানাগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্নকরণের পথে রয়েছে কিনা ।

এই নতুন পদ্ধতিতে এই নতুন পদ্ধতিতে সংস্কার কাজের আরও বেশি ন্যায্য মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়েছে এবং আমরা কারখানাগুলোকে এই মর্মে উৎসাহিত করতে পারবো যে, কারখানাগুলো যেন তুলনামূলক কম বিপজ্জনক সমস্যাগুলোর চেয়ে জীবনের জন্য গুরুতর হুমকি এমন সব সমস্যাগুলো সমাধানে অধিক গুরুত্বারোপ করে ।  

আমাদের পরবর্তী বিষয় হলো শ্রমিকদের ক্ষমতায়ন: আমাদের শ্রমিক প্রশিক্ষণ এবং হেল্পলাইন কর্মসূচি শ্রমিকদের জীবনে এবং তাদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা আনয়নে ইতিবাচক পরিবর্তনে অব্যাহত ভূমিকা রাখছে ।

১.২ মিলিয়নের এক বিশাল শ্রমিক বাহিনীকে আমরা অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান সম্পন্ন করেছি, বর্তমানে আমরা এই পুরো শ্রমিক বাহিনীকে পূনঃপ্রশিক্ষণ প্রদানের প্রক্রিয়ায় রয়েছি – এবং আমরা এ যাবত পর্যন্ত ৬০০,০০০ জন শ্রমিককে পূনঃ প্রশিক্ষণ করিয়েছি ।

আমরা সমস্ত অ্যালায়েন্স কারখানার ২২,০০০ এরও বেশি সিকিউরিটি গার্ডদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি যেন তারা অগ্নিকান্ড এবং ভূমিকম্পের সময় নেতৃত্ব প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে – এই প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যেই জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ।

সংস্কার কাজের কারণে কর্মচ্যূত ৭,০০০ জন শ্রমিককে আমরা আর্থিক ক্ষতিপূরণ (অর্ধেক ) প্রদান করেছি – কিছু ক্ষেত্রে কারখানার মালিকদের শতভাগ অনুরোধ রক্ষা করা হয়েছে, কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবার কারণে কর্মচ্যূত শ্রমিকদের এবং তাদের পরিবারদের সহায়তার জন্য এই ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয় ।

১৬ টি কারখানায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সহ আমরা মোট ৩৪ টি কারখানায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সেইফটি কমিটির প্রতিনিধি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছি – এবং আমরা আশা পোষণ করছি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও ৬০টি কারখানায় এই প্রশিক্ষণ প্রদান করবো ।

এবং ৭৭০ টিরও বেশি কারখানার ১.১ মিলিয়নেরও বেশি শ্রমিক বর্তমানে ২৪ ঘন্টা চালু গোপনীয়তা রক্ষাকারী হেল্পলাইনের আওতাভূক্ত – যেখানে তারা নিরাপদে এবং নাম ঠিকানা গোপন রেখে তাদের কারখানার ভেতরের উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয়গুলো – নিরাপত্তা বিষয়ক অথবা অন্যান্য বিষয় – প্রয়োজনে রিপোর্ট করতে পারেন ।

আজ পর্যন্ত আমরা, অ্যালায়েন্স এবং অ্যালায়েন্স বহির্ভূত উভয় কারখানা থেকে মোট ৬৬,৫০০টি কল পেয়েছি । গত মাসেই, বেশ কিছু কল পেয়েছি যেগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং এগুলো সম্ভব হয়েছে হেল্পলাইনের কারণেই :

  • একটি উদাহরণ দেয়া যাক, অ্যাকর্ডের একটি কারখানা থেকে খুব সকালে একটি ফোন এসেছিলো হেল্পলাইনে । হেল্পলাইন স্টাফরা সঙ্গে সঙ্গে একটি স্থানীয় দমকল বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করে, এবং ১০ মিনিটের মধ্যে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন এবং এতে কেউই হতাহত হননি ।
  • আরেকটি উদাহরণ দেয়া যাক, একজন শ্রমিক হেল্পলাইনে এই মর্মে অভিযোগ করেন যে, তার সুপারভাইজার অবৈধভাবে শ্রমিকদের কষ্টার্জিত বোনাস থেকে টাকা কর্তন করে রাখেন । হেল্পলাইন থেকে ফোন পেয়ে আমাদের টিম কর্তৃপক্ষকে সমাধানের জন্য অনুরোধ করেন, কর্তৃপক্ষ তদন্ত করেন, এবং তদন্তের পর শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেয়া হয় এবং এই অসদাচারণের কারণে উক্ত সুপারভাইজারকে বরখাস্ত করা হয় ।
  • এই উদাহরণগুলো থেকেই বোঝা যায় পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জন্য এই হেল্পলাইন কতটা গুরুত্বপূর্ণ – জরুরি নিরাপত্তার পাশাপাশি শ্রমিক ক্ষমতায়নের হাতিয়ার হিসেবে এই হেল্পলাইন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ।

আজকে আমি অত্যন্ত গর্বিত যে, এই সমস্ত সংস্কার কাজে এবং শ্রমিক ক্ষমতায়নের উদ্যোগসমূহ বাংলাদেশ পোশাক শিল্পকে বিগত তিন বছরের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ করে তুলেছে –এবং আমাদের অগ্রগতি এখন প্রত্যেকটি কারখানার সংস্কার কাজকে আরও তীব্রতর করে তুলছে ।

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ । আমি অত্যন্ত খুশি হবো যদি আপনারা এ বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করেন ।

অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন

বিস্তারিত এফএকিউ –এ দেখুন অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর

দ্রুত যোগাযোগ

অনুগ্রহপূর্বক সাধারণ এবং গণমাধ্যম ঊভয় অনুসন্ধানের জন্য এখানে ক্লিক করুন ।