Alliance for Bangladesh Worker Safety

বাংলা

রানা প্লাজার এক বছর পূর্তি: বাস্তব অগ্রগতি প্রক্রিয়াধীন । এখনও অনেক কাজ করতে হবে ।

.

One-Year Anniversary of Rana Plazaএক বছর আগে রানা প্লাজা ধসের ঘটনা বাংলাদেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর ইতিহাসে একটি অন্যতম ভয়াবহ মর্মান্তিক দূর্ঘ্টনা। ভবন ধসের পরবর্তি  সপ্তাহগুলোয় এই বিপর্যয়ের ভয়বহতা এবং এতে ক্ষতিগ্রস্থ ও তাদের পরিবারের উপর এর যে ব্যাপকবিস্তারি  প্রভাব পড়েছিল তা সারা বিশ্বব্যাপী আমাদের এই সময়ের অন্যতম অতীব জরুরী মানবাধিকার ইস্যূ হিসেবে বিতর্কের ঝড় তুলেছিল।

রানা প্লাজা এবং বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সাথে জড়িত সরকার, ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং সুশিলসমাজ প্রত্যেকেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে একটি পরিবর্তন আনয়নের জন্য যথাযথ উদ্যোগ নেবার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্ত।

এক বছর পর, অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি – উত্তর আমেরিকান ২৬ টি কম্পানির একটি দ্বায়বদ্ধতামূলক উদ্যোগ - শ্রমিকদের নিরাপত্তা উন্নয়নে ইতিমধ্যেই বাস্তব অগ্রগতি অর্জন করতে শুরু করেছে। এই প্রথম, অগ্নি এবং স্থাপনা নিরাপত্তা বিষয়ক একটি আন্তজার্তিক মানদন্ড প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।  আর এই মানদন্ডের আলোকে আমরা কয়েকশত কারখানা পরিদর্শনের কাজ সমাপ্ত করেছি। যার ভিতর মুখ্য ছিল অগ্নি নিরোধক যন্ত্র, শত শত ফায়ারডোর সংস্থাপন এবং উন্নত কাঠামোগত অখন্ডতা । শ্রমিক ক্ষমতায়নের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে যার ভেতর অন্তর্ভূক্ত রয়েছে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, কারখানার শ্রমিক এবং ম্যানেজারদের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ পাঠ্যক্রম এবং একটি গোপন হেল্পলাইন যার মাধ্যমে শ্রমিকেরা নিজেদের নাম গোপন করে তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারবে। সরকার, শ্রমিক এবং প্রাইভেট সেক্টরের সহযোগীতায় আমাদের এই কাজটির নেতৃত্ব প্রদান এবং সরেজমিনে বাস্তবায়নের কাজটি করছে বাংলাদেশীরা ।

কিন্ত প্রয়োজন আরও অনেক কিছু করা। সকল শ্রমিকদের জন্য একটি নিরাপদ পোশাকশিল্প কারখানা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি প্রেরণাদায়ক শক্তি হিসেবে আ্যালায়েন্স তার কাজ অব্যাহত রাখবে। যে ব্যাপারটি আমরা নিশ্চিত করবো তা হলো যে সমস্ত কারখানাগুলো আমাদের সদস্যদের জন্য পণ্য উৎপাদন করে থাকে সেই সমস্ত কারখানাগুলো পরিদর্শন,সংস্কার (রেমিডিয়েশন), শ্রমিক প্রশিক্ষণ এবং ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে উত্তম অনুশীলন প্রদর্শনের মাধ্যমে পথ প্রদর্শকের কাজ করবে।

বাংলাদেশের তৈরী পোশাকশিল্প জাতীয় গর্বের উৎসে পরিণত হওয়া উচিত। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং লক্ষ লক্ষ  বাংলাদেশীর উর্দ্ধমুখি কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস এই পোষাকশিল্প। এই শিল্পে কর্মরত রয়েছেন ৩.৫ মিলিয়ন নারী পুরুষ -  আর এর শতকরা ৮০ ভাগ এরও বেশি হলেন নারী - এটি বিশ্বের ধারাবাহিক সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ।

 

কিন্তু অবশ্যই এই শিল্পটির সফলতার পরিমাপ করতে হবে এটি কতটুকু নিরাপদ  কর্মপরিবেশ তৈরী করতে পারছে এবং শ্রমিক ও তাদের পরিবারের লোকজনদের জীবিকা র্অ্জনের ক্ষেত্রে কতটুকু নিরাপত্তা প্রদান করতে পারছে, যেখানে এই শিল্পটি বাংলাদেশ অর্থনীতির স্তম্ভরুপে কাজ করছে।

কোন কিছুর ঘাটতি বা কমতি কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়।

আমরা আমাদের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার, শিল্প, বাণিজ্য, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এই পরিবর্তন আনয়ন করবেন এবং আমরা তাদেরকে আমাদের সহায়তা প্রদান করে যাবো এবং  এই সফলতা অর্জনে যে সব সংস্থাগুলো একই রকম দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ আমরা তাদেরকেও সহায়তা প্রদান করবো। আমরা আমাদের সম্পদ,সামর্থ, অন্তদৃষ্টি এবং ত্যাগ এই সমস্ত কিছুর একত্রিকরণ অব্যাহত রেখে যাব এটা নিশ্চিত করতে যে বাংলাদেশ পোশাক শিল্পের এবং এর শ্রমিকদের চিরকালের জন্য এক পরিবর্তন আনয়নের মুহুর্তটি ধরতে আমরা যেন ব্যর্থ না হই। 

 


আপনাদের একান্ত অনুগত,

Ellen Tauscher

মাননীয় অ্যালেন টাউসার,
সভাপতি, অ্যালায়েন্স পরিচালনা পর্ষদ

অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন

বিস্তারিত এফএকিউ –এ দেখুন অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর

দ্রুত যোগাযোগ

অনুগ্রহপূর্বক সাধারণ এবং গণমাধ্যম ঊভয় অনুসন্ধানের জন্য এখানে ক্লিক করুন ।